মাস্টার ট্যাকটিশিয়ানদের খুঁটিনাটি: যাদের দারুণ উদ্ভাবনী কৌশল আধুনিক ফুটবলকে এক অনন্যমাত্রায় নিয়ে গিয়েছে
কৃষক যেমন সারা বছর পরিশ্রমের পর মৌসুম আসলে ফসল ঘরে তুলে থাকে ঠিক একইভাবে মনে হচ্ছে লিওনেল মেসি তার গোটা ক্যারিয়ার নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমানের জন্য পরিশ্রমের পর ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে এসে গোটা ক্যারিয়ারের ফসল একটু একটু করে ঘরে তুলছেন। কিছুদিন পর পরই দেখা যাচ্ছে একটির পর একটি রেকর্ড ভেঙে ফেলছে। এই দুইদিন আগেই এক রাতেই দুটি নতুন রেকর্ড তৈরী করলেন : টপ ফাইভ লীগের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং ইতিহাসের সবথেকে বেশি ট্রফি জয়ী খেলোয়াড়।
আমি ব্যাক্তিগত ভাবে কখনোই মেসির এই সব রেকর্ড কিংবা পরিসংখ্যান নিয়ে চিন্তিত নই। যখন এই ধরণের কোনো অর্জন মেসি করে থাকে তখন সোশ্যাল মিডিয়াতে আলোচনা হয় বিধায় অবগত হই। এই বিষয়গুলো নিয়ে আমি চিন্তা করিনা কারণ মেসির খেলাকে শুধুমাত্র ট্রফি কিংবা পরিসংখ্যানের আলোকে চিন্তা করলে সেটি হবে মেসির প্রতি সবথেকে বড় অবিচার। মেসি শুধুমাত্র একজন ফুটবলারই নন, তিনি হচ্ছেন ফুটবলের একজন শিল্পী আর শিল্পকে কখনোই কোনো পরিসংখ্যান দিয়ে মাপা যায়না এবং উচিতও নয়। রেকর্ড তৈরি হয় ভাঙবার জন্য। আজ মেসি যেই রেকর্ড তৈরী করেছে কিংবা করছে সেই রেকর্ডও হয়তোবা ভবিষ্যতে কেউ একজন ভেঙে ফেলবে। কিন্তু শিল্প ? সেটা কখনোই ভাঙা সম্ভব নয় কারণ প্রতিটি শিল্পই হচ্ছে শিল্পীর নিজস্ব বিষয়।
তারপরও কিছু কিছু পরিসংখ্যান এতোটাই সুস্পষ্ট ও স্পষ্টভাষী যে তা নিয়ে কিছু না বলে একদম এড়িয়ে যাওয়াও সম্ভব নয়। এই যে মেসি টপ ফাইভ লীগের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হলো এটা একটি অসাধারণ বিষয়। কিন্তু এই অসাধারণ বিষয়টি অবাস্তবে পরিণত হয় যখন আমরা মেসির খেলার পজিশন এবং খেলার ধরণ পর্যালোচনা করি। আমরা সবাই জানি মেসি কতটা ডিপে এসে খেলে এবং এট্যাকিং মিডফিল্ডার দের মত করে মিডফিল্ড কে নিয়ন্ত্রণ করে ; যার প্রমান মেসির ৫ টি বিশ্বসেরা প্লেইমেকার অ্যাওয়ার্ড বিজয়। সেই একই খেলোয়াড় আবার ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাও (টপ ফাইভ লিগে) সেটি কি অবাস্তব নয়? অবস্যই অবাস্তব। আপনারা যদি বেস্ট প্লেমেকার অ্যাওয়ার্ড জয়ী দের লিস্ট দেখেন তাহলে একমাত্র মেসিকেই পাবেন যে কিনা প্লেমেকিং এর সাথে সাথে আবার গোল স্কোরারও।
যারা সাধারণত প্লেমেকিং করে তারা স্ট্রাইকারদের মত ভুরি ভুরি গোল করেনা, আবার যারা ভুরি ভুরি গোল করে তারা প্লেমেকিং করেনা। মেসিই একমাত্র খেলোয়াড় যে কিনা একইসাথে দুটিই করে যাচ্ছে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে। এবং গ্রেটনেসের তালিকায় এটাই মেসিকে অন্য যে কারো তুলনায় অগ্রগামী করে দেয়।
একটি ক্লাবের গ্রেটনেসের বিষয়ে আমি বলেছিলাম যে শুধুমাত্র চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জয়ের সংখ্যা দেখেই একটি ক্লাবের গ্রেটনেস বিবেচনা করা উচিত নয়। সেই সাথে আরো অনেক ক্রাইটেরিয়াও দেখতে হয় এবং এটাও বলেছিলাম যে রেয়াল মাদ্রিদ হচ্ছে একমাত্র ক্লাব যারা কিনা প্রতিতিয়া ক্রাইটেরিয়াতেই নম্বর এক কিংবা দুই। অন্য যে কোনো ক্লাব একদিকে এগিয়ে থাকলে আরেকদিকে পিছিয়ে যায়।
এই ধরণের কথা মেসির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। কারণ মেসিই একমাত্র খেলোয়াড় যে কিনা গ্রেটনেসের প্রতিটি মাপকাঠিতেই প্রথম কিংবা প্রথম ২/৩ জনের মধ্যে রয়েছে। এমন আরেকজন খেলোয়াড়ও ইতিহাসে আসেনি যে কিনা এইভাবে প্রতিটি ক্যাটাগরিতেই টপ পজিশনে অবস্থান করছে। সর্বোচ্চ গোলদাতা, সর্বোচ্চ এসিস্ট দাতা ,দলীয় ভাবে সর্বোচ্চ ট্রফি জয়ী খেলোয়াড়, ইন্ডিভিজুয়ালি সবথেকে বেশি অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত খেলোয়াড়, জাতীয় দল কিংবা ক্লাব উভয় হয়ে সফলতা, সেরা ফ্রি কিক টেকারদের লিস্ট , সেরা ড্রিবলার দের লিস্ট এইভাবে প্রতিটি ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব একমাত্র একজনই অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি হচ্ছে লিওনেল আন্দ্রেস মেসি কুচিত্তিনি।
দি গ্রেটেস্ট অফ অল টাইম।
রাইটার: ইয়াসির আরাফাত
ফেসবুক লিংক:Yasser Arafat
Comments
Post a Comment